নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারে ‘নবীন ফ্যাশন’ নামে একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করা হয়েছে এবং দোকানটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী জাস্টিস অব পিস হিসেবে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন প্রতিবেদনে দেখা গেছে—মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে অবস্থিত নবীন ফ্যাশন দোকানে একদল ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতিতে গিয়ে দোকান বন্ধ করে দেয়। এ সময় কিছু ব্যক্তির উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দৃশ্যমান হলেও পাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
আদালত এ ঘটনায় মন্তব্য করেন, পুলিশের এমন নির্লিপ্ত আচরণ জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং তা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। কেন এ আচরণ আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে ওসিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ওসিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবীন ফ্যাশন দোকানটি পুনরায় চালু করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগের দিন ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তুলনামূলক কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা ‘নবীন ফ্যাশন’ দোকানটি বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেশী দোকানদাররা কম দামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ কার্যক্রমের মতো’ বলে আপত্তি জানান।
ঘটনার পর দোকান মালিক সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের এ নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন