বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের বিভিন্ন দাবি, দীর্ঘদিনের জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক আলোচনার পর এই সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; এতে বিশেষভাবে ১-১২তম, ১৩তম ও ১৪তম, ১৭তম নিবন্ধনের ৩৫ বছরোর্ধ্ব প্রার্থী এবং ১৮তম নিবন্ধনের ৩৫ বছরোর্ধ্বদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা–সম্পর্কিত উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের এনটিআরসিএ পরিদর্শনের সময় কয়েকটি আটকে থাকা গোষ্ঠীর দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট দাবির যৌক্তিকতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা, এবং সম্ভাব্য নীতিগত শিথিলতার প্রস্তাবসহ সারসংক্ষেপ আকারে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই তথ্যের প্রকাশ্য সরকারি নথি না মিললেও, খবরটি একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সারসংক্ষেপে মূলত কেন এতগুলো ব্যাচের নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি, তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা যায়। এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সনদের মেয়াদ এবং বয়সসীমার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেওয়া হলে আটকে থাকা অনেক প্রার্থীর নিয়োগ সুপারিশের পথ খোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোরও নিষ্পত্তি প্রয়োজন বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনিক ও আইনি—দুই ধরনের বাধাই এতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এনটিআরসিএ সরাসরি ‘তাৎক্ষণিক নিয়োগ’ নয়, বরং নীতিগত ছাড় দিলে সুপারিশ সম্ভব—এমন অবস্থান নিয়েছে বলেই সূত্রের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। এর মানে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মন্ত্রণালয়-নির্ভর। বিশেষ করে সনদের কার্যকারিতা, বয়সসীমা, এবং চলমান মামলার প্রভাব—এই তিনটি প্রশ্নের সমাধান ছাড়া বৃহৎ পরিসরে সুপারিশ কার্যকর হওয়া কঠিন।
প্রসঙ্গত, ১৭তম নিবন্ধনধারী ৩৫ বছরোর্ধ্বদের নিয়োগ-সুযোগ এবং ১৮তম পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া বা বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি নতুন নয়। এর আগে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ভাইভা-পর্বে বাদ পড়া প্রার্থীরাও পুনর্মূল্যায়ন ও সনদ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ১-১৮তম নিবন্ধন ইস্যু কেবল প্রশাসনিক নয়, ক্রমেই বড় আকারের নীতিগত ও আইনি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
তবে পুরো বিষয়টিতে এখনো একটি বড় ঘাটতি রয়ে গেছে: সরকারি স্বচ্ছতা। যে সারসংক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, সেটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা এনটিআরসিএ—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। ফলে প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অবস্থান এখনো হবে—এনটিআরসিএর অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, বা আদালতের আদেশের অপেক্ষা করা। সরকারি ঘোষণার আগে “সমাধান হয়ে গেছে” বা “নিয়োগ নিশ্চিত”—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
সারসংক্ষেপে যা আছে বলে জানা যাচ্ছে
১-১২তম, ১৩-১৪তম, ১৭তম ৩৫ ঊর্ধ্ব ও ১৮তম ৩৫ ঊর্ধ্ব নিবন্ধনধারীদের বিষয় আলোচিত হয়েছে।
কেন এতদিন নিয়োগ সুপারিশ সম্ভব হয়নি, তার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
সনদের মেয়াদে শিথিলতা দিলে কিছু প্রার্থীর সুপারিশ সম্ভব হতে পারে।
বয়সসীমায় শিথিলতা দিলে আটকে থাকা অংশের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চলমান মামলার নিষ্পত্তি ছাড়া পূর্ণ সমাধান কঠিন।
এখন বল মন্ত্রণালয়ের কোর্টে; নীতিগত সিদ্ধান্ত ছাড়া বাস্তব অগ্রগতি অনিশ্চিত।
✍️ মন্তব্য লিখুন