নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা/কুমিল্লা | ২২ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার কারণ, দায়িত্বে গাফিলতি এবং ক্রসিং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি—সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান রোববার সকালে জানান, ছয় সদস্যের একটি কমিটিতে ডিটিও, ডেন-১, ডিএসটিই, ডিএমই (লোকো), ডিএমও এবং আরএনবির কমান্ড্যান্টকে রাখা হয়েছে। অপর ছয় সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন সিওপিএস, সিই, সিএমই, সিএমও, সিএসটিই ও আরএনবির সিসি। এই দুই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত, ২১ মার্চ থেকে ২২ মার্চে পা দেওয়ার পর, রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায়। একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, যদিও কিছু প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অবহেলা এবং যথাযথ সংকেতব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও প্রাথমিকভাবে বলেছেন, রেলক্রসিংয়ে যথাযথ সিগন্যাল না থাকা বা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ না হওয়ার কারণে বাসটি লাইনে উঠে যেতে পারে। বিডিনিউজ, জাগো নিউজ ও অন্য কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান নামে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করা হলেও দ্রুত সাড়া মেলেনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকিদের পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছিল।
দুর্ঘটনার পর রেল চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত বাস সরানোর কাজ শুরু করে এবং সকাল নাগাদ আপলাইন থেকে বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের রেলক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, গেটম্যানদের জবাবদিহি এবং জরুরি উদ্ধার সমন্বয়ের প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখন নির্ধারণ করবে, এটি কেবল মানবিক ভুল ছিল, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনারই আরেকটি মর্মান্তিক পরিণতি।

✍️ মন্তব্য লিখুন