ঢাকা, ২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বিশেষ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসন সুবিধা গড়ে তুলতে সহায়তার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খোরশেদ আলম এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
১,০০০ বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করতে চীন পিছপা হবে না। হাসপাতালটি সাধারণ বা বিশেষায়িত—যেকোনো ধরণের হলেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চীন থেকে চিকিৎসক দল বাংলাদেশে এসে সহায়তা দিয়েছে। বিশেষ করে মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় চীনা চিকিৎসক দলের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের জন্য ৮২টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বাংলাদেশি মেডিকেল স্টাফদের চীনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আবাসন সুবিধা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব
রাষ্ট্রদূত বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিয়োজিত চিকিৎসক-গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা উন্নত করা হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে চীন আগ্রহী।
উত্তরবঙ্গে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব
বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত প্রস্তাব করেন, চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন এক হাজার বেডের হাসপাতালটি উত্তরবঙ্গে স্থাপন করা যুক্তিযুক্ত হবে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ তুলনামূলকভাবে অনুন্নত ও অবহেলিত অঞ্চল হওয়ায় সেখানে একটি বড় হাসপাতাল নির্মাণ স্বাস্থ্যসেবার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন