বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস বি-জনিত মৃত্যুর উচ্চ বোঝা বহনকারী দেশগুলোর তালিকাতেও রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ বার্তায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় মারা যান। এদের অধিকাংশের মৃত্যু হয় লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে। সংস্থাটি বলছে, হেপাটাইটিস বি ও সি–সংক্রান্ত মৃত্যু মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী।
ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ২০২০–২০৩০ জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নবজাতকের হেপাটাইটিস বি টিকাদান জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জনসচেতনতার ঘাটতি, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধের সীমিত প্রাপ্যতা, সামাজিক কলঙ্ক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। এগুলো হলো—হেপাটাইটিস বি টিকাদান ও নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা একীভূত করা, বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক নজরদারি আরও শক্তিশালী করা।
✍️ মন্তব্য লিখুন