১৮ এপ্রিল ২০২৬ | গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদের ইমামের কিশোরী মেয়েকে ঘিরে অপহরণ ও ‘উদ্ধার’ নাটকীয়তায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করার পরপরই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে বিবৃতি দিয়েছে।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীপুরে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ইমামের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় সাহা জানান, শনিবার দুপুরে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং তার সঙ্গে থাকা এক তরুণকেও আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি অপহরণ নয়, বরং প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনা বলে জানা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিনই ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে চলে যায় এবং পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, মেয়েটিকে এক পর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে ছেলের পরিবারের লোকজন তালা ভেঙে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছেলের পরিবারের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মেয়েটির বাবা, স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাদিউল ইসলাম দাবি করেছেন, সশস্ত্রভাবে তার বাড়িতে ঢুকে মেয়েকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা তার গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখায় এবং মেয়েকে ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় সালিশ বৈঠকের একজন মধ্যস্থতাকারী জানান, ছেলে-মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিললেও বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মূল প্রশ্নগুলো
এটি কি সত্যিই অপহরণ, নাকি সম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে?
মেয়েটির প্রকৃত বয়স কত—আইনি দিক থেকে তা গুরুত্বপূর্ণ
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য—কোনটি সঠিক?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন