১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বর্তমান সংবিধানের অধীনেই ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ার পর পুনরায় শপথ গ্রহণ করা আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক।
শুক্রবার জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে (বাংলা)-এর একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
একই সংবিধানে ‘দ্বৈত শপথ’ অযৌক্তিক
রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতেই সরকার ও সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অবস্থায় একই সংবিধানের অধীনে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সরকার শুরুতেই সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দিত, তাহলে নতুন শপথের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো তৈরি হতো।
১০৬ অনুচ্ছেদ ও বৈধতার প্রশ্ন
তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এই অনুচ্ছেদের অধীনেই শপথ গ্রহণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে একই কাঠামো বজায় রেখে নতুন করে শপথ গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয় বলেই তিনি মনে করেন।
“দ্বিতীয় শপথে প্রথমটি নালিফাই হয়”
তার মতে, দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করলে পূর্বে নেওয়া শপথের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এ কারণেই তিনি দ্বিতীয় শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠন নিয়েও বিতর্ক
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ প্রয়োগ সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে মতামত দেওয়া কিছু বিচারকের পদত্যাগ নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে আইনের একটি নীতি অনুযায়ী, যা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে তা পরে পরিবর্তন করা কঠিন। তবুও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংক্ষেপে, রুমিন ফারহানার অবস্থান হলো—একই সংবিধানের অধীনে দ্বৈত শপথ গ্রহণ আইনি দিক থেকে অসঙ্গত, এবং বর্তমান প্রক্রিয়া নিজেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন