আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ সত্ত্বেও Tehran আপাতত কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদানও স্থগিত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araqchi স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলতে থাকলে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি উদ্যোগ কার্যকর হবে না। তেহরানের দাবি, সংঘাতের সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ বন্ধ না হলে আলোচনায় ফেরার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে ইরান আবারও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট প্রণালী Hormuz বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখছে, অন্যদিকে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চাইছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে দুর্বল অবস্থান নিতে চাইছে না। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও দ্রুত সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্প সংঘাত বন্ধে আগ্রহী হলেও ইরান নিজেদের শর্ত পূরণ ছাড়া আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি নয়—এমন বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে তেহরান।
✍️ মন্তব্য লিখুন