১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি
বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অবস্থান ‘ইতিবাচক’ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাকি কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো শিগগিরই সমাধান হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসি-তে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এখনো আলোচনা চলছে। যেগুলো রিজলভড হয়নি, সেগুলো আলোচনার মধ্যেই সমাধান হবে। এটি একদিনের বিষয় নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া।”
কিস্তি স্থগিত নিয়ে ধোঁয়াশা
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা দেননি। তিনি বলেন, “আইএমএফ না করেছে কি না—এটা তারা বলবে। আমরা এখনো সেই জায়গায় যাইনি।”
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক এবং সব পক্ষের মনোভাব সহায়ক।
বড় প্রেক্ষাপট: সংস্কার ও অর্থনৈতিক চাপ
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার গত ডিসেম্বরে ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো আটকে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শর্ত থাকে, যেমন—
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি
ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা
ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি মূল্য সমন্বয়
এই শর্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতিই কিস্তি ছাড়ের মূল নির্ধারক।
অতিরিক্ত সহায়তার প্রত্যাশা
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাজেট সহায়তার প্রয়োজন বিবেচনায় বাংলাদেশ আরও অন্তত ৩০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার আশা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সবাই খুবই পজিটিভ। তবে চূড়ান্ত প্যাকেজ কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”
কী দেখার বিষয়?
স্থগিত কিস্তি কবে ছাড় হবে
সংস্কার শর্ত পূরণে সরকারের অগ্রগতি
নতুন বা অতিরিক্ত ঋণ কর্মসূচির কাঠামো
সব মিলিয়ে, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন