ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে কম সিজিপিএর কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে থিসিস গ্রুপে সুযোগ পাননি দেবাশীষ সরকার। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে গবেষণার কাজ চালিয়ে গিয়ে পরে ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা শুরু করেছেন। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুনের একটি পোস্ট এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন জানান, দেবাশীষ তার সঙ্গে থিসিস করতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ৩-এর নিচে থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে থিসিস ছাত্র হিসেবে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপরও বিভিন্নভাবে যাচাই করে তাকে নিজের গবেষণা দলে যুক্ত করেন তিনি। থিসিস ছাত্র না হয়েও দেবাশীষ গবেষণাগারের নিয়মিত কাজ করেন এবং এ সময় অধ্যাপকের সঙ্গে তার দুটি গবেষণা প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়।
পরে দেবাশীষ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। অধ্যাপক মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে পরবর্তী ধাপে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা শুরু করেছেন। এই ঘটনাকে তিনি একটি বড় বার্তা হিসেবে তুলে ধরেন—আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা পূর্ববর্তী পর্যায়ে খারাপ সিজিপিএ মানেই জীবনের শেষ নয়; বরং সেখান থেকেও নতুন শুরু সম্ভব।
দেবাশীষ সরকারও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, মানুষের ভেতরের লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে বর্তমান অবস্থা বা সীমিত যোগ্যতা দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। কাউকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা না গেলেও অন্তত নিরুৎসাহিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
✍️ মন্তব্য লিখুন