নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় জামায়াত।
১১ দলীয় জোটের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত
জামায়াতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী দলের প্রার্থী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে আজ রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই জোটের পক্ষ থেকে যৌথ প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তাদের প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়নি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণের বিধান রয়েছে। আর একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নির্বাচন
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
এবারের নির্বাচন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। জামায়াতের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী জোটের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কে হবেন, তা মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন