খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি, হাসপাতালের রোগীদের খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির নির্ধারিত বেতনভুক্ত একজন নার্স হওয়া সত্ত্বেও সাহিদা বেগম ও তার পরিবারের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি, বহুতল ভবন, বাগানবাড়ি, আবাসিক প্রকল্প ও নগর সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মানিকছড়ি বাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত বিস্তৃত এসব সম্পদের মূল্য কোটি কোটি টাকা হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানিকছড়ি বাজারে একাধিক ভবন, লেমুয়া এলাকায় বড় বাগানবাড়ি, পানজারাম পাড়ায় ফলজ বাগান, কালাপানি এলাকায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, থানা সংলগ্ন আবাসিক কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রামে বহুতল ভবন ও একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার দাবিও করা হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির বেতন প্রায় স্পর্শ না করেও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের ওপরই চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে।
গুরুত্বপূর্ণ: কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। বর্তমান তথ্যগুলো অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন