ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা (র্যাবিস ভ্যাকসিন) প্রয়োগের পর অর্থ দাবি এবং টাকা না পেয়ে রোগীদের আটকে রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত নার্সকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু—আব্দুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩)—বিড়ালের কামড়ে আহত হলে শুক্রবার রাতে তাদের চিকিৎসার জন্য কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বে থাকা নার্স মোর্শেদা আক্তার দুই শিশুর জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
শিশুদের স্বজনদের দাবি, তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নার্সের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির জানান, শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখানো হলেও পরে অনুরোধের পর টিকা দেওয়া হয়। তবে টিকা প্রয়োগের পর অর্থ দাবি করা হলে তারা তা দিতে রাজি হননি। এরপর তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা এবং রোগীদের হয়রানির অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন