সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর–কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে দলটির পক্ষ থেকে ভিডিওতে দেখা তরুণীকে ওই সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে সেখানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিও ও অডিও বিশ্লেষণে অসামঞ্জস্যেরও কোনো সুস্পষ্ট আলামত মেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য মিলেছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে এটিকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে একই ঘটনার আরও ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এলে সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন যে ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্যকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরাসরি বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন