ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জাতীয় নির্বাচনের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধানের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি ব্যক্তি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ইসি আরও প্রস্তাব করেছে, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার বকেয়া বিল থাকলে সেটিও প্রার্থিতার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তিদের নির্বাচন করার সুযোগ সীমিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে সংশ্লিষ্ট আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কমিশন মত দিয়েছে। ইসির ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত করা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সরকার প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করলে নতুন বিধান কার্যকর হবে। বর্তমানে এগুলো কমিশনের প্রস্তাব; আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধানই বহাল থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন