রাজবাড়ী প্রতিনিধি | ২৬ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থী রয়েছেন—যা এই দুর্ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু যাত্রী, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
শিক্ষার্থী ও পরিবার—একাধিক প্রাণহানি
এই দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মৃত্যু গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ-এর শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি ও তার স্বামী
BGMEA University of Fashion & Technology-এর শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও তার স্ত্রী
এছাড়া
Bangladesh Health Professions Institute (বিএইচপিআই)-এর শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা এবং তাদের সাত মাস বয়সী সন্তানও প্রাণ হারিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুরুজ্জামান সাময়িকভাবে বাস থেকে নামলেও চোখের সামনে স্ত্রী ও সন্তানসহ বাসটি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখেন—এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত
নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান ও তার ভাগ্নের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।
এর আগে তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বড় বোন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উদ্ধার অভিযান: সময়ের সঙ্গে লড়াই
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও শক্তিশালী ক্রেন ব্যবহার করে ডুবে যাওয়া বাসটি তোলার কাজ শুরু হয়।
বাসের সামনের অংশ পানির ওপর তোলা হয়েছে
দরজা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে
যাত্রীদের ব্যাগ, জুতা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে উঠছে
উদ্ধারকারী দল জানায়, বাসে থাকা আরও প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারেন। ডুবুরি দল অবিরাম তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
বাসটিতে আনুমানিক ৪৫–৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
স্বজনদের আহাজারি
ঘাটজুড়ে এখন শুধুই অপেক্ষা—স্বজনদের কান্না আর অনিশ্চয়তা। জীবিত ফিরে আসার আশা ক্ষীণ হলেও, প্রিয়জনের মরদেহ অন্তত খুঁজে পাওয়ার আকুতি নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে।
—
সার্বিক চিত্র
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের নৌ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।
তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান।
✍️ মন্তব্য লিখুন