নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ী | ২৫ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। বাকিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জীবিত উদ্ধার ও নিখোঁজদের খোঁজ
দুর্ঘটনার পরপরই ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ফেরিঘাট এলাকায় ভিড় করে আহাজারি করছেন, যা পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধার তৎপরতা জোরদার
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও ফরিদপুর থেকেও আরও দুটি ইউনিট রওনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘হামজা’ নামের একটি উদ্ধারকারী ফেরি ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নদীর স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে উদ্ধার অভিযান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রশাসনের অবস্থান
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
—
প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ দেশের অন্যতম ব্যস্ত ফেরি রুট। এখানে প্রায়ই অতিরিক্ত চাপ, যানজট ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
—
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন