ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৬
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা একই প্রশ্নে নেওয়া সম্ভব কি না—তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর মতামত, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অভিমত এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে পরে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শিক্ষা বিটের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই মানদণ্ড নিশ্চিত করতে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা একক প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়, ফলে বাংলাদেশেও এ ধরনের পদ্ধতি চালু করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু হলে দেশের সব বোর্ডে পরীক্ষার মান একীভূত হবে এবং ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে। তবে প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি, বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার বৈষম্য এবং কারিগরি প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাইলট প্রকল্প, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বোর্ড চেয়ারম্যানদের মতামত এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন