ঢাকা, ২১ মার্চ ২০২৬: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে পরিবার, মন্ত্রী-এমপি এবং দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তিনি এ জিয়ারত করেন।
এর আগে সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ওই কর্মসূচি শেষ করেই তিনি শেরেবাংলা নগরে যান।
কবর জিয়ারতের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। পরিবার নিয়ে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
পরে বিএনপির পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উপদেষ্টাও সেখানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম ঈদ উদ্যাপন। জাতীয় ঈদগাহে নামাজ, যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন এবং সেখানে ঈদের বাকি সময় স্বজনদের সঙ্গে কাটান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের দিনে রাষ্ট্রীয় ও পারিবারিক—দুই পরিসরকে একসঙ্গে সামনে আনার এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিকে পারিবারিক ঐতিহ্য ও আবেগের জায়গাকে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির মাধ্যমে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতারও একটি বার্তা দিয়েছেন। এই অংশটি ঘটনাপ্রবাহ থেকে করা একটি বিশ্লেষণভিত্তিক পর্যবেক্ষণ।
✍️ মন্তব্য লিখুন