আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন লি জে মিয়ং। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, জরুরি বৈঠকের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনার বেশিরভাগই সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি তেলের ঘাটতির আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে, যদি ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়।
শেয়ারবাজারে বড় ধস
চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল দেশটির শেয়ারবাজারে যে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, তা অনেক বিশ্লেষকের মতে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা–পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির চেয়েও তীব্র।
একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা কোরিয়ান উন মার্কিন ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি তা অতীতের আর্থিক সংকটের সময়কার সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দেশে ফিরেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা
এ সময় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদেশ সফরে ছিলেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবে আজ বাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট লি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৬৯ বিলিয়ন ডলারের স্থিতিশীলতা তহবিল
বাজার ও মুদ্রা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি জরুরি তহবিল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কোরিয়ান উনের মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে।
তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করার নির্দেশ
জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং তেল আমদানির উৎস দ্রুত বৈচিত্র্যপূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ একই সময়ে বিশ্বের অনেক দেশই বিকল্প তেলের উৎস খুঁজতে চেষ্টা করছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহনে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শিপিং খাতকে সহায়তার উদ্যোগ
পরিস্থিতি বিবেচনায় অঞ্চলে পরিচালিত দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। জ্বালানি পরিবহন এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে এ খাতে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন