নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা-এ এক বনফুল কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা-কে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় ওই কর্মচারীকে জরিমানা করা হয়। তবে ইউএনও এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জরিমানাটি করা হয়েছে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ মে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনও সাধারণ ক্রেতার বেশে একটি বনফুল শাখায় গিয়ে বিভিন্ন মিষ্টি সম্পর্কে জানতে চান। সেখানে কর্মচারী আব্দুল মান্নান তাঁকে ‘আপা’ সম্বোধন করে মিষ্টির বিষয়ে তথ্য দেন। পরে ইউএনও পরিচয় প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে দাবি করেন ওই কর্মচারী।
আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে জরিমানার অর্থ তাঁর বেতন থেকে কেটে নেওয়ার কথা জানানো হয়। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনও হননি।
তবে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কাউকে ‘আপা’ বলার কারণে জরিমানা করার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, দোকানে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ ও মোবাইল কোর্টে উদ্ঘাটিত অনিয়মের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বনফুলের স্থানীয় ব্যবস্থাপকও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা চলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন