ডেস্ক নিউজ
ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে কোনো ধরনের দখল বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কিছু উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে এবং বর্তমানে আবারও ব্যাংকটিকে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটা দেশ এভাবে চলতে পারে না।” তাঁর ভাষ্য, জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং বিরোধী মতের কণ্ঠস্বরকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের প্রতি গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরে তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণারও ইঙ্গিত দেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন