বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা বা অভ্যাস তার নেই।
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সাকিব। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে ফেরাও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা থাকায় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সম্ভাব্য বিদায়ী টেস্ট খেলতে দেশে ফেরার পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি; দুবাই থেকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।
সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, “আমি যেখানেই যুক্ত থাকি, সেই জায়গার প্রতিই অনুগত থাকি। দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও এটি স্থায়ী হবে না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, “কোনো রাজনৈতিক দলকে আজীবন নিষিদ্ধ করে রাখা যায় না—এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন।”
ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে সাকিব আগেই জানিয়েছেন, তিনি দেশের মাটিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান। তবে বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেই ইচ্ছা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
রাজনীতি ও খেলাধুলার এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে সাকিবকে ঘিরে জনমনে যেমন আগ্রহ, তেমনি বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন