ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গ্যাস অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩২.৭৩ শতাংশে—যা বসন্ত মৌসুমের জন্য অস্বাভাবিকভাবে কম।
গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩৯.৫২ শতাংশ। আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ছিল ৬২.৪৪ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৫৯.৭৩ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের সময়কার অবস্থার কাছাকাছি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাধারণত শীতকাল শেষে বসন্তে গ্যাসের ব্যবহার কমে যাওয়ায় মজুত বাড়তে শুরু করে। তবে এবছর তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসেও বিভিন্ন দেশ গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত রাখায় মজুত কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এদিকে ইউরোপের গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হচ্ছে। কাতার দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। রাশিয়া বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তাই এখনই বিকল্প জ্বালানি উৎস বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যকরণ এবং মজুত বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নিম্ন মজুত ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য একটি সতর্ক সংকেত—যা ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন