প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চুরি ও অগ্নিকাণ্ড: ৮৩ ল্যাপটপ উধাও, তদন্তে নাশকতার আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-এ সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এক ব্যক্তি বোরকা পরে ভবনে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে ল্যাপটপ চুরি করার পর আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ নিখোঁজ রয়েছে এবং প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাক্রম
শুক্রবার (১ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান দায়িত্বরত আনসার সদস্য। পরে দ্রুত খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিস এসে ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বোরকা পরিহিত এক ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার একটি অস্থায়ী স্টোররুমের তালা ভেঙে অন্তত পাঁচবার ভেতরে ঢোকেন এবং ধাপে ধাপে মালামাল সরিয়ে নেন। যাওয়ার সময় তিনি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ওই স্টোরে মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। এর মধ্যে:
৪৫০টি অক্ষত
৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত
২৯টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত
১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে
৮৩টি ল্যাপটপ নিখোঁজ
মামলা ও তদন্ত
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ-এর কাছে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য জানাতে শিগগিরই প্রেস ব্রিফিং করা হবে।
উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন
ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং সম্ভাব্য নাশকতার দিকটি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাশকতার প্রশ্ন
ঘটনার ধরণ—বিশেষ করে চুরির পর আগুন লাগানো—তদন্তকারীদের মধ্যে নাশকতার আশঙ্কা জোরদার করেছে। তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন