ইবি প্রতিনিধি, ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৪ PM
ফরিদপুরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানাতে এবং হত্যাকারীর ফাঁসিসহ বিচার দাবি জানাতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা হত্যাকারী কর্মচারী ফজলুর ফাঁসিসহ তড়িৎ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন, যেমন:
“বিচার চাই, শিক্ষক হত্যার বিচার চাই”
“আমার ম্যাম মরল কেন, প্রশাসন জবাব দাও”
“ইবি কেন রক্তাক্ত, প্রশাসন জবাব চাই”
“উই ওয়ান্ট জাস্টিস”
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, “সবাই সাক্ষী যে এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। একজন কর্মচারী কী পরিমাণ সাহস দেখাল যে, বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালে নিজের কক্ষে একজন শিক্ষককে হত্যা করতে পারল। আমরা দ্রুত বিচার চাই এবং খুনির ফাঁসি দাবি করছি।”
সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিভাগটি ম্যাডামের নেতৃত্বে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোনো ব্যাখ্যা নেই। শিক্ষার্থীদের যে দাবিগুলো উত্থাপিত হয়েছে, আমি সেগুলোর সঙ্গে একমত।”
বিক্ষোভে শিক্ষার্থী বাঁধন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরেন, যা হলো:
1. দ্রুততম সময়ে জনসমক্ষে হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর করা।
2. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
3. ক্যাম্পাসের বিভাগ ও হলসহ প্রতিটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সংরক্ষণ।
4. স্মার্ট আইডি কার্ড ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
5. কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামপ্লেটসহ বিশেষ পোশাক নিশ্চিত করা।
6. বিভাগের আয়-ব্যয় হিসাব প্রকাশ করা এবং অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করা; প্রয়োজন হলে ইউজিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ইবি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন