অনলাইন ডেস্ক | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ PM
দেশের ৪৫টি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) পদ্ধতিতে নবম-দশম শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়েছে। তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবদুল মান্নান জানান, দাখিল-আলিম ও কামিল পর্যায়ের যেসব মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে, কেবল সেগুলোতেই নবম শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শিক্ষকের প্রাপ্যতা বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যবসা শিক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি অপরিচিত নয়। আরবি পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়বস্তুর উপস্থিতি থাকায় তাদের জন্য বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যকারিতা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
তিন শর্তে অনুমোদন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইলটিং ভিত্তিতে বাণিজ্য বিভাগ চালুর জন্য তিনটি প্রধান শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে—
অষ্টম শ্রেণিতে ন্যূনতম ১০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে
অতিরিক্ত অন্তত দুটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা থাকতে হবে
জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকদের বেতন প্রদানের সক্ষমতা থাকতে হবে
এই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ৪৫টি মাদ্রাসাতেই চলতি শিক্ষাবর্ষে বিভাগটি চালু হয়েছে।
ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদ বলেন, পাইলটিং পদ্ধতিতে চালু হওয়া বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কতটা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারছে, তা এখনই মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে অনুমোদনপ্রাপ্ত ৪৫টি মাদ্রাসার বাইরে নতুন করে কোনো প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্য বিভাগ চালুর সুযোগ নেই। পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন করে অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তৃতি
দেশে বর্তমানে দাখিল ও আলিম পর্যায়ের মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এর মধ্যে দাখিল পর্যায়ে ৬ হাজার ৪৭৪টি এবং আলিম পর্যায়ে ১ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে ১ হাজার ৩৪৭টি, কামিল মাদ্রাসা ৩৫৯টি এবং সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে ৩টি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষায় সাধারণ শিক্ষার বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মাদ্রাসায় বাণিজ্য বিভাগ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন