ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ — দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম তদারকিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, তা নিজ কক্ষে বসেই পর্যবেক্ষণ করবেন—এ জন্য হেলিকপ্টারে করে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই।
রাজধানীর দনিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসি ক্যামেরা নিয়ে অযথা ভয় কাজ করছে। কিন্তু এতে ভয়ের কিছু নেই। বরং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে—শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না এবং শিক্ষার্থীরা তা গ্রহণ করতে পারছে কি না।”
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষাব্যবস্থার তদারকির ধরন বদলেছে। “আগের মতো ঘুরে ঘুরে দেখতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা এখন নেই। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে আমি নিজ কক্ষে বসেই জানতে পারব কোন স্কুলে কী হচ্ছে,” বলেন তিনি।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অযথা ভীত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান তিনি। “সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজন নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করব,” যোগ করেন তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়মিত ও মানসম্মত হতে হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ক্লাসরুমের কার্যক্রম রেকর্ড থাকবে এবং প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা করা হবে। এ নিয়ে সমালোচনা বা ট্রলকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন