নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৫ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা এবং টেকনিক্যাল বা ভোকেশনাল শিক্ষা এক নয়—দুইটি ভিন্নধর্মী শিক্ষা ব্যবস্থা। টেকনিক্যাল শিক্ষার মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীতে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, মন্ত্রীর জবাব
সভায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর এক শিক্ষার্থী নিজেকে “ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং” শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলে শিক্ষামন্ত্রী আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন আর টেকনিক্যাল এডুকেশন এক না। তুমি গুলিয়ে ফেলছো।”
শিক্ষার্থী ব্যাখ্যা করেন, তার কোর্সের নাম ‘সিভিল টেকনোলজি’ এবং দেশে প্রচলিতভাবে ডিপ্লোমাধারীরা নিজেদের ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এ প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার। আর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার—এই দুই টার্মকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।”
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টানলেন মন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে আলাদা কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুর-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাস্তবতা বনাম কাগুজে তথ্য
পলিটেকনিক শিক্ষার্থী দাবি করেন, তাদের কারিকুলামে প্রায় ৫৯ শতাংশই প্র্যাকটিক্যাল। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। “কাজির গরু কেতাবে আছে, খাতায় আছে—গোয়ালে নেই,”—মন্তব্য করেন তিনি, যা দিয়ে তিনি প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার ঘাটতির ইঙ্গিত দেন।
সংস্কারের ইঙ্গিত
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোকে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, “দুইটা একসাথে হয় না—ইঞ্জিনিয়ারিং আর টেকনিক্যাল। আলাদা করে গড়ে তুলতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং কারিকুলামের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন