০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ PM
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর তিন স্থায়ী সদস্য—রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট একটি প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। তবে উল্লিখিত তিন দেশ তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি কার্যত বাতিল করে দেয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো অচলাবস্থা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
প্রস্তাবের পটভূমি
আরব দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে নৌপথটি উন্মুক্ত রাখতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জাতিসংঘের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স শুরু থেকেই যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে বিস্তৃত করতে পারে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ভেটো ইরানের ওপর চাপ কমিয়ে দিতে পারে এবং তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে তারা পৃথক কৌশলে এগোচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
কূটনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট
এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের বিভাজনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে পশ্চিমা ও মিত্র দেশগুলোর কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে রাশিয়া-চীন-ফ্রান্সের মতো শক্তিধর দেশগুলোর ভিন্নমত—সব মিলিয়ে সংকট সমাধানে ঐকমত্য গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের মাধ্যমে সমাধানের পথ আপাতত জটিল হয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আরও বেশি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন