আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া–এর বান্নু জেলার মিরিয়ান তহসিলের বারাকজাই আখুন্দখেল এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য ও দুই বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ২৫ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াসির আফ্রিদি জানান, শনিবার গভীর রাতে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর উপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় শান্তি কমিটি যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। পরে লাক্কি মারওয়াত এলাকার শান্তি কমিটির সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করে নিরাপত্তা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ বাধা সরিয়ে অভিযানে অগ্রসর হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলির পর অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের দাবি, অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডার জমারি নূর ও আবদুল্লাহ নিহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, বারাকজাই এলাকায় এখনও বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র সদস্য অবস্থান করছে। ফলে এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিচয় ওয়াহিদ খান ও নূরুল্লাহ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াহিদুল্লাহ, শাহ বখতিয়ার, সাজ্জাদুল্লাহ, এসএইচও আসমতুল্লাহ নিয়াজি, জোহাইব খান, আতিফ ও নোমান কোরেশি।
অন্যদিকে নিহত দুই বেসামরিক ব্যক্তি হলেন অবসরপ্রাপ্ত এফসি কর্মকর্তা রাইব খান ও নাসির খান। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা, যাদের মধ্যে মহসিন, বখত আলী ও সাফিউল্লাহর নাম জানা গেছে।
এদিকে একই এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বান্নু পুলিশ। বান্নু-মিরানশাহ সড়কের মামা শ খেল এলাকার একটি মসজিদের কাছে পুঁতে রাখা প্রায় ১০ কেজি ওজনের রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকটি নিরাপদে অপসারণ করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও বোমা হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে চাপে ফেলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন