আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে ভারত। দীর্ঘদিন রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকার পর এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার পর ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলো সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ভারত তার মোট জ্বালানি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে। ফলে প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের তৎপরতা বাড়ায় দেশটি।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং সরবরাহ ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
এদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশটির কাছে অন্তত ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ভারত নয়, গোটা এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে আরব সাগর ও ওমান উপকূলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতকে আরও বহুমুখী জ্বালানি কৌশলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক সংকটে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা।
✍️ মন্তব্য লিখুন