আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, Venezuela থেকে পাওয়া তেল ও জ্বালানি সুবিধা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এমন অর্থনৈতিক লাভ করেছে, যা দিয়ে Iran–বিরোধী সামরিক অভিযানের ব্যয় “প্রায় ২৫ বার” মেটানো সম্ভব হয়েছে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলায় আমরা খারাপ করিনি। আমরা সেখান থেকে এত বেশি তেল নিয়েছি যে, ইরান যুদ্ধের খরচ প্রায় ২৫ বার উঠে এসেছে।” তবে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা সরকারি নথির উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশল ও বৈদেশিক নীতির রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন Venezuela–এর বিশাল তেলসম্পদকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দেশটির গুরুত্ব বহুবার উঠে এসেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে Iran–কে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানসংক্রান্ত সামরিক তৎপরতা, নজরদারি ও মোতায়েনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এ ব্যয়ের প্রকৃত অঙ্ক নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি নির্বাচনী বার্তাও রয়েছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি জ্বালানি সম্পদ থেকে কৌশলগত সুবিধা আদায়ে সক্ষম হয়েছিল। তবে একটি স্বাধীন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে যুদ্ধ ব্যয়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত করায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অনেকেই নতুনভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন