আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা আলোচনা “প্রায় সম্পন্ন” এবং এই চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। তবে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি “শান্তি সমঝোতা স্মারক” নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “চুক্তির বেশিরভাগ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, এখন শুধু চূড়ান্ত রূপ দেওয়া বাকি।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনাধীন খসড়া চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানি তেল রপ্তানি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
তবে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং ট্রাম্পের “চুক্তি প্রায় সম্পন্ন” মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, সামরিক অভিযান এবং নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন দফা আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন