ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি টিচার্স ট্রেনিং (টিটি) কলেজগুলোতে হঠাৎ করে এক সেমিস্টারের ফি তিনগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘শিক্ষাবান্ধব নয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, আগের ব্যাচগুলোতে যেখানে ৭ম সেমিস্টারের ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে বর্তমান ব্যাচের জন্য তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই এমন বৃদ্ধি তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে দাবি করেন তারা।
ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেষ্টাও ব্যর্থ
দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও লিখিত আবেদন জানান। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য সরাসরি তাদের সঙ্গে দেখা না করে দপ্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন।
প্রাথমিকভাবে আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা: ‘সিস্টেমের অংশ’
উপাচার্যের দপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে বেশি ফি নেওয়া হয়, তাই বর্তমান ফি অতিরিক্ত নয়। তিনি এটিকে প্রশাসনিক ‘প্রসেস’ বা ‘সিস্টেম’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
শিক্ষার্থীদের যুক্তি: পরীক্ষা নেই, তবুও বেশি ফি কেন?
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৭ম সেমিস্টারটি মূলত ইন্টার্নশিপভিত্তিক। এ সময় কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় না; বরং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা করেন এবং শেষে একটি মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমে মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়।
এ অবস্থায় পরীক্ষা ফি, কেন্দ্র ফি ও অন্যান্য খাত যুক্ত করে ফি বাড়ানোকে তারা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
‘মব’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, তাদের ন্যায্য দাবিকে প্রশাসন ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল জনসমাবেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা তাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা।
পুনর্বিবেচনার দাবি
১৪টি টিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সাধারণ ও নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
শিক্ষার্থীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন