বরগুনা প্রতিনিধি | ৪ এপ্রিল ২০২৬
বরগুনার তালতলী উপজেলা-এর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝড়ে ছাউনি উড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সামনে বর্ষা মৌসুম ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো ঝাড়াখালী আলহাজ নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যা অবস্থিত কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো পূর্ণাঙ্গ পাকা ভবন পায়নি। বর্তমানে এখানে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।
গত ১৭ মার্চ গভীর রাতে আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের টিনের ছাউনি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। ফলে শ্রেণিকক্ষ অচল হয়ে পড়ায় মাঠেই টেবিল-চেয়ার ও বেঞ্চ বসিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রখর রোদে শিশুদের ক্লাস করতে হচ্ছে, আবার হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে তাদের। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষকদের শঙ্কা
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে পাঠদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ঝড়ে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক চিত্র
গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো এই বিদ্যালয়টিও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন