ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠেছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল ডিভাইস এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই, বরং ভবিষ্যতে এ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
সংকটকালীন বাস্তবতায় ডিজিটাল নির্ভরতা
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যানজটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে ডিজিটাল মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় সভায়।
তিনি বলেন, বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে অফলাইনের বদলে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। তাই এখন থেকেই সেই মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তোলা জরুরি।
প্রযুক্তির বিস্তার ও সহজলভ্যতা
চেয়ারম্যান জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল ডিভাইসের উৎপাদন খরচ কমছে, ফলে এগুলো আরও সহজলভ্য হবে। একসময় প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এসব ডিভাইস পৌঁছে যাবে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় ভূমিকা রাখবে।
আসক্তি নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ
তবে তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভাইস-নির্ভরতা বা ‘আসক্তি’ বড় উদ্বেগের বিষয়। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে চোখ ও মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় টেলিভিশন নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা ছিল। এখন টিভির জায়গা নিয়েছে স্মার্ট ডিভাইস, ভবিষ্যতে হয়তো নতুন প্রযুক্তি—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—আরও বড় প্রভাব ফেলবে।
শিক্ষা সহজ করতে ডিভাইসের ভূমিকা
চেয়ারম্যানের মতে, একটি ডিভাইসই একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনেক সহজ করে দিতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চিন্তার বদলে সঠিক ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতি
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন