ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২৬ — দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূইয়া-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর সেখানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি পর্যালোচনা করে বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করে জাতীয়করণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত বিষয়। এটি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য নয়; বরং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, প্রচলিত নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী। ফলে এই বিশাল জনবলকে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হলে প্রয়োজন হবে সুপরিকল্পিত নীতি, পর্যাপ্ত বাজেট এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কৌশল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয়করণ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকার সতর্ক ও ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত কবে এবং কীভাবে আসে, এবং তার ভিত্তিতে দেশের শিক্ষা খাতে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
✍️ মন্তব্য লিখুন