ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জাল সনদ শনাক্তে কার্যক্রম
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম-এর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম দূর করতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ বাধ্যতামূলক
মন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম কমাতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—
সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি
শিক্ষকদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা
নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
এছাড়া শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদের তালিকা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এ পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল মনিটরিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম এবং একাডেমিক তদারকি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরে সব প্রতিষ্ঠানে ‘ইমপ্যাক্ট ইভ্যালুয়েশন’ বা প্রভাব মূল্যায়ন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব ফলাফল পরিমাপে সহায়ক হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রী আরও জানান, ‘অ্যাক্সিলারেটিং সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
সারসংক্ষেপে, শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি স্তম্ভকে সামনে রেখে এগোচ্ছে সরকার।
✍️ মন্তব্য লিখুন