ঢাকা, ৭ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি-প্রোভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা একই প্রবণতা দেখেছি। প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দল করা কোনো অপরাধ বা দূষণীয় বিষয় নয়। কিন্তু যদি দল না করলে নিয়োগ না পাওয়া যায়—তাহলে সেটি একটি দুঃখজনক বাস্তবতা।”
রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলাকালে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে অধিবেশনে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মাইক বন্ধ করে দেন।
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন যে, এসব নিয়োগে যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
তবে সরকারপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচন যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হয়, তাহলে তা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
এই বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন