ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: জনগণের ভোট ও মতামত উপেক্ষা করাকে ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি চলমান প্রবণতা, যা ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় না; বরং সময়ের সঙ্গে নতুন রূপে বিস্তার লাভ করতে পারে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য ও অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা।” তিনি দাবি করেন, দেশে এখনো সেই প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ একটি রোগের মতো। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শাসক পরিবর্তন হলেও এই প্রবণতা থেকে যায় এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।”
দেশে আর ফ্যাসিবাদ দেখতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে বর্তমান সরকারি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। “আমরাও মজলুম ছিলাম, তারাও মজলুম ছিল। গোটা জাতিই মজলুম ছিল,”—যোগ করেন তিনি।
সাবেক ও বর্তমান নির্যাতিতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি বিষয়ে মতামত দিয়েছে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি গণভোট। তার দাবি, “৫১ শতাংশ ভোটের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু গণভোটে ৬৮ শতাংশ সমর্থন এসেছে। তাহলে ৬৮ বড় না ৫১ বড়?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূরণ করেনি। “আমরা কাটাছেঁড়া সংবিধান চাই না, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চূড়ান্ত সংবিধান চাই,”—বলেন তিনি।
জ্বালানি তেল সংকট নিয়েও সরকারকে সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সংসদে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং উচ্চমূল্যে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
তার ভাষ্য, “সংকট না থাকলে মানুষ কেন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লাইন দেবে?”—এ প্রশ্ন তুলে তিনি সরকারের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন