ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ — নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি শেষ করে এবার নতুন কর্মসূচি হিসেবে দেশব্যাপী আলোচনা সভার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একই দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারি কর্মচারীদের দাবি, সমস্যা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে এই অসন্তোষ দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম জানান, আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।”
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ৮ম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয় ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
নেতারা মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন