কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার ড. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত থেকে সংহতি জানান। মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ও চার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. গফুর গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। “ক্যাম্পাসে রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই আবার রক্ত ঝরল। এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।”
গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত রুনা ছিলেন বিনয়ী, সজ্জন ও মেধাবী শিক্ষক। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার, অস্থায়ী কর্মীদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং বিভিন্ন স্থানে আনসার মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।
জিয়া পরিষদের সভাপতি ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, অতীতে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার বহু ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচার হয়নি। তার মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এ ধরনের অপরাধকে উৎসাহিত করছে। “অপরাধীরা যদি মনে করে শাস্তি এড়ানো সম্ভব, তখন তারা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে,” বলেন তিনি।
এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এক শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপের অভাব ছিল।
উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি নিহত শিক্ষিকার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং তদন্তে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তারা মনে করেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন