ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত সপ্তাহে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখবে এবং তেহরানের কাছ থেকে নতুন আলোচনার প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকবে। তবে কবে পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি। ফলে কূটনৈতিক সমাধান না সামরিক উত্তেজনা—কোন পথে পরিস্থিতি এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
আইনি বাধ্যবাধকতায় চাপে হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের War Powers Resolution অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। কোনো সামরিক পদক্ষেপ শুরু হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন রাখা যায়।
এরপর আরও ৩০ দিনের সীমিত সময় পাওয়া গেলেও, তার জন্য কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হয়। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সেনা মোতায়েন রাখা আইনত বাধাগ্রস্ত হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১ মে-কে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই আইনি চাপ আরও বাড়ছে।
কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে সংশয়
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা United States Congress—এর দুই কক্ষ, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় জায়গায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন পাস করতে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব ভোটাভুটিতে বাতিল হয়েছে, যা প্রমাণ করে—দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য কতটা গভীর।
আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস যদি যুদ্ধ অনুমোদন না দেয়, তাহলে প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করার কথা। তবে বাস্তবে অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন এবং সবসময় তা কঠোরভাবে মানা হয়নি।
সামনের পথ
বর্তমানে পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে—
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো
সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখা
অথবা কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
✍️ মন্তব্য লিখুন