যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে National Science Board (এনএসবি)-এর সব সদস্যকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২২ সদস্যের এই বোর্ডটি দেশটির শীর্ষ বিজ্ঞান অর্থায়নকারী সংস্থা National Science Foundation (এনএসএফ)-এর নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে সাবেক বোর্ড সদস্য ও আইনপ্রণেতাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
—
হঠাৎ সিদ্ধান্ত, নেই স্পষ্ট কারণ
বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের একজন, জীববিজ্ঞানী Roger Beachy জানান, তাদের কাছে পাঠানো ই-মেইলে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সংক্ষিপ্ত ওই বার্তায় শুধু “আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ” বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে এনএসএফ কোন ধরনের গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
—
ট্রাম্প প্রশাসনের পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতা
এই পদক্ষেপকে অনেকেই Donald Trump প্রশাসনের বৃহৎ পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে শিক্ষা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা USAID-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে বাজেট কমানো ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
এছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Elon Musk-এর নেতৃত্বাধীন একটি সরকারি দক্ষতা সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে এনএসএফে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন করা হয়। গত বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ১,৬০০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল।
—
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য Zoe Lofgren একে “বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের জন্য ক্ষতিকর” এবং “হাস্যকর” সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বা এনএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
—
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বোর্ড?
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসএফ যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটি ২০২৫ সালে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা একে বিশ্বের অন্যতম বড় গবেষণা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে এনএসবি-এর মতো একটি নীতিনির্ধারণী বোর্ডের হঠাৎ বিলুপ্তি বা পুনর্গঠন বিজ্ঞান খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
—
সামনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বোর্ড নিয়োগ দেওয়া হলেও সেটি কতটা স্বাধীন হবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, এবং গবেষণা অনুদানের ভবিষ্যৎ কী হবে—এসব বিষয়ই এখন নজরে রাখছেন গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন