এম জি বাবর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষনের পর ভিডিও ধারন করে টাকা আদায় করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার মামলার আসামী দেলোয়ার হোসেন (৪৯) নামের এক শিক্ষককে পুলিশ শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ হাকিম তাকে জেলা কারাগারে পাঠায়।
মামলার বিবরনে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন (৪৯) দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাজেদা আক্তার (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে তার সহযোগী তিনতক্তা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮) এর বাড়ীতে এবং চৌমুহনী মিয়ামী হোটেল সহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে শারীরিক ভাবে নির্যাতন ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে। একপর্যায়ে কলেজ ছাত্রী তাকে বিয়ে করার জন্য ঐ প্রতারক শিক্ষককে বার বার অনুরোধ করলেও এতে সে রাজি হয়নি। ঐ শিক্ষক বিয়ে না করে তার স্ত্রী সন্তান রয়েছে এই বলে ভিডিও ধারন করা সকল ডকুমেন্ট সামাজিক যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে দিয়ে ছাত্রীর মানসম্মান হানি ও মানসিক যন্ত্রনা দেয়। এব্যাপারে মাজেদা আক্তার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল-১ নোয়াখালী আদালতে দুইজনকে আসামী করে ৭৯/২০২৬ইং একটি অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত বেগমগঞ্জ মডেল থানাকে এফ.আই.আর হিসেবে গ্রহন করার নির্দেশ দেয়। সে মতে বেগমগঞ্জ মডেল থানা আদালতের নির্দেশে ২৯ নং তারিখ ২৩/০৪/২০২৬ইং নারী নির্যাতন আইনে মামলা রুজু করেন। এরপর পুলিশ উক্ত মামলার প্রধান আসামী দেলোয়ার হোসেন (৪৯) কে নিজ গ্রামের বাড়ী পূর্ব মির্জানগর থেকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দী নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামী শংকর চন্দ্র মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কায়েসুর রহমান জানান, মামলার সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

✍️ মন্তব্য লিখুন