ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে চলমান বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন এই মামলায় হানিফ ছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা আসামি হিসেবে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর মে মাসে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে এবং পরে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হতে পারে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা খালাস পেতে পারেন।
মামলাটির গুরুত্ব এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে রায় ঘোষণার দিকে দেশজুড়ে বিশেষ নজর রয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণই বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন