নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় মামলা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগের মধ্যে এবার ডাকসু নেতাদের মামলাও না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা-এর বিরুদ্ধে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের সংগঠন ডুজার মামলাও নিতে বিলম্বের অভিযোগ ওঠে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলি ইবনে মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে থানায় গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে তারা দাবি করেন।
সংঘর্ষ ও হামলার অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ঢাবি ছাত্রদল ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ডাকসুর দুই নেতা—মোসাদ্দেক ও এবি জুবায়ের—ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট নেতাদের হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যান ডাকসু নেতারা।
মোসাদ্দেক অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা নেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে “ঊর্ধ্বতন নির্দেশের” অপেক্ষার কথা বলেছে। তার ভাষায়, “মামলা নেওয়া হবে কিনা, সেটি ওপরের সিদ্ধান্ত—এমন কথা বলা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এবি জুবায়ের বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। “আমরা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর সহায়তায় সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে হামলার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মামলা নেওয়া হয়নি,” বলেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ডাকসু নেতাদের অভিযোগ, থানার ভেতরেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। এমনকি পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে কিনা—সে প্রশ্নেও স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি বলে দাবি করেন তারা।
একই অভিযোগ তুলেছে ঢাবি সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও মামলা গ্রহণে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পুলিশের বক্তব্যে মনে হয়েছে তারা ঊর্ধ্বতন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে, যা উদ্বেগজনক।”
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডুজার সভাপতি ও সাংবাদিক মানজুর হোসাইন মাহি এবং সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ ঘটনার পর থেকেই মামলা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা চলছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
পরপর দুটি ঘটনায়—সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের অভিযোগ—শাহবাগ থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা দ্রুত মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন