প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরানকে ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে চাপ বাড়াতে বন্দরগামী এবং বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ চলাচল সীমিত রাখার পরিকল্পনা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
দামের সর্বশেষ চিত্র
বুধবার ভোরের লেনদেনে—
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent crude)-এর জুন ডেলিভারি মূল্য ৫২ সেন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১.৭৮ ডলার হয়েছে
একই সূচক টানা অষ্টম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে
বেশি লেনদেন হওয়া জুলাই চুক্তির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৮৪ ডলার
অন্যদিকে—
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর জুন ফিউচারের দাম ৫৭ সেন্ট বা ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে ১০০.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে
আগের সেশনে সূচকটি ৩.৭ শতাংশ বেড়েছিল এবং গত আট কার্যদিবসের মধ্যে সাত দিনই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে
কেন বাড়ছে দাম
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির ওপর নতুন করে অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা কঠোর হলে বৈশ্বিক সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।
সম্ভাব্য প্রভাব
তেলের এই ঊর্ধ্বগতি আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে—
জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি
পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ
সামনে কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তবে কূটনৈতিক সমাধান বা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব এখন সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে—যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় সব স্তরেই।
✍️ মন্তব্য লিখুন