নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুমনা ফেরদৌসী (৩৬) উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের স্ত্রী। সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টিকটক ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুমনার মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করার উদ্দেশ্যে তাঁর মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলে বাড়িতে ফিরে লিমন মল্লিক চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে আত্মহত্যার চেয়ে হত্যার আলামত বেশি পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার পর অভিযুক্ত স্বামী প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের নানা ঘটনা সামনে এলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান অথবা আইনি সহায়তা নেওয়াই হতে পারে গ্রহণযোগ্য পথ।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন